

সিলেট প্রতিনিধি | ১৯ আগস্ট ২০২৫
সিলেটের জেলা প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সংযুক্ত) মো. সারওয়ার আলমকে নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে অবৈধ সাদা পাথর ও বালু উত্তোলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কোয়ারি লুটপাট, পরিবেশ ধ্বংস এবং প্রশাসনের শিথিল ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে। এছাড়া ভারতীয় চিনি ও মাদক চোরাচালানের প্রধান রুট হিসাবে দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে সিলেটের সিমান্তবর্তী উপজেলাগুলো। অভিযোগ ওঠে— জেলা প্রশাসন এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এর ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সিলেটের ডিসি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
মো. সারওয়ার আলম ২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় আসেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। রাজধানীতে ভেজালবিরোধী অভিযান, হাসপাতাল তদারকি ও কাসিনো বিরোধী অভিযানে তিনি নেতৃত্ব দেন। সাহসী পদক্ষেপ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তিনি জনমনে পরিচিতি লাভ করেন।
সারওয়ার আলমের সামনে এখন তিনটি বড় দায়িত্ব—
- সিলেটে অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধ করা।
- পরিবেশ সংরক্ষণে প্রশাসনকে সক্রিয় করা।
- মাদক ও ভারতীয় পন্যের চোরাচালান বন্ধ করা।
- জেলা প্রশাসনের জনআস্থা ফিরিয়ে আনা।
সিলেটের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দাবিতে জনমনে চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় আলোচিত কর্মকর্তা সারওয়ার আলমের নিয়োগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন অনেকেই। তবে তিনি কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন এবং অবৈধ সিন্ডিকেটের চাপ মোকাবিলা করতে পারবেন— সেটিই হবে তার প্রশাসনিক দক্ষতার বড় পরীক্ষা।